বিশ্ববাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে দুগ্ধজাত পণ্যের। এ কারণে গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম টানা চতুর্থবারের মতো কমেছে। সর্বশেষ নিলামে গড় দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৪ হাজার ২৭৪ ডলারে নেমে এসেছে। খবর এনজেড হেরাল্ড, এনভেস্ট ও ডেইরি নিউজ টুডে।
ফন্টেরার (নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান) ফার্মগেট (কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ মূল্য) দুধের মূল্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ। জিডিটির সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম কমেছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। টনপ্রতি মূল্য নেমে এসেছে ৩ হাজার ৮৫৯ ডলারে, যা মে মাসের শুরুর সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ১১ শতাংশ কম।
জিডিটির এবারের নিলামে লেনদেন হওয়া দুগ্ধজাত পণ্যের পরিমাণ আগের নিলামের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৭০৫ টনে পৌঁছেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর প্রধান কারণ ফন্টেরার মৌসুমি সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়া। এছাড়া উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোয় বর্তমানে উৎপাদনের শীর্ষ মৌসুম চলছে। এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ড স্টক এক্সচেঞ্জের (এনজেডএক্স) ডেইরি অ্যানালিস্ট রোজালিন ক্রিকেট বলেছেন, এ কারণগুলো একদিকে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। অন্যদিকে দাম কমে যাওয়ায় উত্তর এশিয়ার দেশগুলোয় দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা বাড়িয়েছে।
জিডিটির সর্বশেষ নিলামে ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননিছাড়া গুঁড়া দুধের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে টনপ্রতি ২ হাজার ৭১৮ ডলারে নেমে এসেছে। এ সময় মাখনের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫২২ ডলারে। অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম কমে ৬ হাজার ৯২৮ ডলারে স্থির হয়েছে। সর্বশেষ নিলামে চেডার পনিরের দাম কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। টনপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৪ হাজার ৮৬০ ডলারে। এ নিলামে মোজারেলা পনিরের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। তবে এ সময় বাটার মিল্ক পাউডার ও ল্যাকটোজের দাম যথাক্রমে ৯ দশমিক ৩ ও ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
রোজালিন ক্রিকেট জানিয়েছেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা এখনো ঊর্ধ্বমুখী। সর্বশেষ নিলামে দেশগুলোর ক্রয়ের পরিমাণ গত নিলামের তুলনায় ৪২ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৭ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দামের এ নিম্নমুখিতা সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য ফন্টেরা দুধের ফার্মগেট মূল্য কেজিএমএসে (কিলোগ্রাম অব মিল্ক সলিডস) ৮-১১ ডলার নির্ধারণ করেছে। তবে পণ্যের ক্রমবর্ধমান সরবরাহ ও চাহিদার বিষয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আগামী মাসগুলোয় দাম স্থিতিশীল থাকবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম নির্ধারণে সামনের দিনগুলোয় বাজার চাহিদা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।